বাগমারায় সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামল উদ্দিন মাঝির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সোমবার নিহত শ্যামল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ। এ সময় বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই নিহত শ্যামল উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ দেশে পাঠানোর উপযোগী হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিহতের পরিবারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু শুকনো খাবারও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, “নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তার আওতায় পরিবারটি যাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পায়, সে বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে শ্যামল উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা এখন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মতামত (০)
এখনো কোনো মতামত নেই, প্রথম মতামত দিন।