রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় শৌচাগারের বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা (৩১) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই পানি ব্যবহারের পর তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন গৃহবধূ। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
শুক্রবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সোহেল রানা ঘটনার পর স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর শৌচাগারে রাখা একটি বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মেশানো হয়। পরে ওই গৃহবধূ শৌচাগারে গিয়ে সেই পানি ব্যবহারের পরই তীব্র জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভব করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই খারাপ হয় যে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন। পরে যন্ত্রণা কমানোর জন্য পুকুরের পানিতেও নামেন তিনি।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা ঠান্ডা পানি দিয়ে গৃহবধূকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূর চোখ ও নাকের ওপর কালো দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ফায়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আধুনিক মার্কেট
১টি যাত্রী • ১টি কার্গো
নিরাপত্তা নজরদারি
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটেই আসুন
গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করেছেন সোহেল রানা। দুই মাস আগে নির্যাতনের অভিযোগ থানায় যাওয়ার পর পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। সে সময় আর স্ত্রীকে নির্যাতন করবেন না বলে মুচলেকাও দিয়েছিলেন তিনি। এই দম্পতির পাঁচ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
গৃহবধূর মা শাহানারা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর জামাতা মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মেয়েকে মারধর করেন। কয়েক দিন ভালো থাকার পর আবার নির্যাতন শুরু করেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগেও মেয়েকে মারধর করা হয়েছিল। তবে এবার শৌচাগারের পানিতে মরিচের গুঁড়া মেশানোর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, স্ত্রী ও শাশুড়ির আচরণ ভালো নয় এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কেও সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তিনি তা মেনে নেবেন।
বাগমারার হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মেশানোর বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এর আগে দাম্পত্য কলহের অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মতামত (০)
এখনো কোনো মতামত নেই, প্রথম মতামত দিন।