রাজশাহীর বাগমারায় প্রতারণা মামলার আসামি এবং আদালতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও ঢাকা মহানগরীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড় এলাকায় ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পরে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কেএম আব্দুর রহিম ও অহিদুল ইসলাম পৃথকভাবে বাগমারা থানায় মামলা করেন। মামলায় ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’-এর পরিচালক ময়নুল ইসলাম (৩৬), পিতা আব্দুল ওয়াহেদ, মাতা মোমেনা, সাং ঝাড়গ্রাম, থানা বাগমারা, জেলা রাজশাহীসহ চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি ময়নুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যথাযথ পুলিশি প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী কেএম আব্দুর রহিম ওই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৮ লাখ টাকা জমা দেন। তার ভাই ওয়াছেক আলী বিল্লাহও একই প্রতিষ্ঠানে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাগমারা থানা এলাকার আরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আধুনিক মার্কেট
১টি যাত্রী • ১টি কার্গো
নিরাপত্তা নজরদারি
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটেই আসুন
অন্যদিকে, একই আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রতারণা মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত দুইটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি শিমুল বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। তাকেও বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলার আসামি গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাগমারা থানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনিবন্ধিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সমিতি বা সমবায় প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অস্বাভাবিক মুনাফা, দ্রুত অধিক অর্থ লাভ কিংবা দ্বিগুণ টাকা ফেরতের মতো লোভনীয় প্রস্তাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ প্রতারণার শিকার হলে বা কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মতামত (০)
এখনো কোনো মতামত নেই, প্রথম মতামত দিন।