রাজশাহীর বাগমারায় গোয়ালঘরের দেয়াল ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় দুই বাসিন্দা পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বেলঘরিয়াহাট গ্রামে প্রায় শত বছরের পুরোনো একটি পায়ে হাঁটার সংযোগ রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি স্থানীয় একটি হেরিংবোন (এইচবিবি) সড়কের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের বামনী গ্রামের মৃত বুনাই প্রামাণিকের ছেলে এবং গণঅধিকার পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সহসভাপতি ইয়াকুব আলী জনি ওই স্থানে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণে তাঁদের আপত্তি নেই। রাস্তা নির্মাণে জমির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকেরা নিজেদের জমির পরিমাণ অনুযায়ী জমি দিতেও প্রস্তুত। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ করে ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ইয়াকুব আলী জনি বেলঘরিয়া গ্রামের রহিম মন্ডলের ছেলে নাসির উদ্দীনের গোয়ালঘরের দেয়াল ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় নাসির উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে একটি মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রাস্তার একাংশে পুকুর, ডোবা ও কাঁচা জমি রয়েছে। ফলে ওই অংশে ৫ থেকে ৬ ফুটের বেশি প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই অংশ বাদ দিয়ে মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রশীদের জমির ওপর ১২ থেকে ১৪ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ইয়াকুব আলী জনি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথাও তিনি এলাকায় বলে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে একাধিকবার ইয়াকুব আলী জনির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বেলঘরিয়া গ্রামের নাসির উদ্দীন ও আব্দুর রশীদ পৃথকভাবে ইয়াকুব আলী জনিকে বিবাদী করে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত (০)
এখনো কোনো মতামত নেই, প্রথম মতামত দিন।