রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে।
📞 01714-090856
গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার চানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকটি গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গুলির অভিযোগের সত্যতা এখনো মেলেনি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে।
হামলার কিছুক্ষণ আগেই রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন বলে জানান আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নেই। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তবে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে আতঙ্কিত করতে বা সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে—এ তথ্য জানালে বিএনপির ওই নেতা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিভিন্ন পোস্ট দেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এক বিবৃতিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানান বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপি। দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করে দলটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
ওই সময় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিকসহ দলীয় নেতারা।
মতামত (০)
এখনো কোনো মতামত নেই, প্রথম মতামত দিন।