রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিকের বাসভবনে ককটেল হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক। তিনি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আব্দুর রাজ্জাক প্রামাণিক দাবি করেন, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তচক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একটি মহল তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "ককটেল, গুলি কিংবা সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে জনগণের পাশে থাকা থেকে বিরত রাখা যাবে না। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি মানুষের পাশে থাকব।"
এর আগে হামলার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, সাবেক সদস্য সচিব শামসুজজোহা সরকার বাদশা, তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আ. ন. ম. শামসুর রহমান মিন্টুসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।