রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাল নিতে আসা উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে আরও ৫০ টাকা করে নেওয়া এবং নতুন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ওই টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় উপজেলার ৮ নম্বর কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের ১, ২, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের পীরগঞ্জ বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সংগ্রহ করেন উপকারভোগীরা। গত ২ সেপ্টেম্বর চাল নিতে গেলে তাঁদের কাছ থেকে কার্ডপ্রতি অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। সরকারি নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের দাম ৪৫০ টাকা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিলারের পক্ষ থেকে নতুন কার্ড করে দেওয়ার জন্য ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে উপজেলা অফিসে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, নতুন কার্ড দেওয়ার নামে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো অনুমতি নেই।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করলে ডিলার ও স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা। ঘটনার মৌখিক সাক্ষী ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগী নজির হোসেন বলেন, “অনেকের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ডিলারের সঙ্গে আমাদের অনেক কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি ইউপি সদস্যকে জানালে তাঁর হস্তক্ষেপে অনেকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এখনো অনেকে টাকা ফেরত পাননি। নতুন বই দেওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। প্রায় ৪৫০ জনের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিলে বড় অঙ্কের টাকা হয়।”
ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চাল দেওয়ার সময় বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে অভিযোগের সত্যতা পাই। টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আমার সঙ্গেও কথা-কাটাকাটি হয়। পরে চেষ্টা করে অনেক উপকারভোগীর টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করি। তবে পরে জানতে পেরেছি, এখনো সবাই টাকা ফেরত পাননি।”
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার মামুনুর রশীদ বলেন, “কিছু কার্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং কিছু কার্ড ছিঁড়ে গিয়েছিল। সেগুলোর পরিবর্তে নতুন কার্ড দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিতে চেয়েছিলাম। পরে ইউপি সদস্যসহ উপকারভোগীরা এসে জানান, এভাবে টাকা নেওয়া যাবে না। এরপর আর কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি।”
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “এভাবে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”