বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারায় টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া সরকারি পুকুরে নামতে বাধা এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগমারা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সমিতির সভাপতি বাচ্চু রহমান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবানীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন নয়ন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের টেন্ডারের ফলাফলের ভিত্তিতে কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৪৩৩-১৪৩৫ বাংলা সনের জন্য একটি সরকারি পুকুর ইজারা নেওয়া হয়। পুকুরটির জেএল নম্বর ১৮৯, দাগ নম্বর ৪৪৯ এবং আয়তন ৩৮ শতক। ইজারা পাওয়ার পর সমিতির পক্ষ থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ৬ মে পুকুরটিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের পোনা মাছ ছাড়া হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুলের অনুসারী ভবানীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ডিএম শাহীন এবং বাগমারা উপজেলা যুবদল নেতা শাকিলের নেতৃত্বে গুয়াবাড়ী গ্রামের সাইদুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি লিজ নেওয়া পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় পুকুরে যেতে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগও করেন সমিতির সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ডাকা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিপক্ষের কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। এমনকি পুকুরের বৈধ কাগজপত্রও তারা দেখাতে পারেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুকুরে গেলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদস্য আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির পক্ষ থেকে ইজারা নেওয়া পুকুরটি দখলমুক্ত করে বৈধ ইজারাদারদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ভবানীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ডিএম শাহীন বলেন, গুয়াবাড়ী গ্রামের সাইদুর রহমান আগে থেকেই পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ওই পুকুরে তার অনেক জমি আছে। তিনি ওই পুকুরে যাননি এবং তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়।
অন্যদিকে রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল বলেন, সরকারি পুকুরটি সরকারি নিয়মে ডাক হয়েছে। যারা ইজারা পেয়েছে, তারাই ভোগদখল করবে। কাউকে দখল করতে তিনি নির্দেশ দেননি। রাজনীতি করতে গেলে অনেক অনুসারী থাকে। তাই বলে অবৈধ কাজে তিনি কাউকে সমর্থন করবেন না।